ঢাকায় হরিণ শিকার হতো অভিনব পদ্ধতিতে

Spread the love

একসময় ঢাকার আশেপাশে জঙ্গল ছিলো। সেই জঙ্গলগুলোতে বাস করতো চার রকমের হরিণ। লাল হরিণ, সাম্বার হরিণ , চিত্রা হরিণ ও মায়া হরিণ।মায়া হরিণের সংখ্যা গোটা বাংলাতেই খুব কম ছিলো। তবে শিকারীরা জানতো হরিণগুলোর বসবাস কোথায় ছিলো!

মায়া হরিণ একটু ভিন্ন ধরনের। চোয়ালের ওপর পাটি থেকে একজোড়া খিলান দাঁত বেরিয়ে থাকে। ভয় পেলে এরা কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করে ডাকে বলে একে অনেকে বাকিং ডিয়ার। এদের শিং ছোট ছোট। তিন ইঞ্চির চেয়ে বড় শিংওয়ালা মায়া হরিণ তেমন দেখা যায় না৷

ঢাকার আশেপাশের জঙ্গলে হরিণ ছিলো অনেক। জঙ্গলের কাছে সর্ষে বা তিল চাষিরা এদের জ্বালাতনে অতিষ্ঠ থাকতো। জমিদারের প্রজারা অনেকে ফসল বাঁচাতে শিকারী কুকুর পুষত। জমিদাররা এদের উৎপাত থেকে বাঁচার জন্য প্রজাদের ফসল রক্ষা করতে ফাঁদ বা জাল পেতে হরিণ শিকার করতো। এটি একটু অদ্ভুত উপায় ছিলো। স্থানীয়রা একে বলতো “ডাল্লা শিকারী”। বাঁশ ও চাটাই দিয়ে ৪ ফুট ব্যাসের এক রকম গোলাকৃতি কাঠামো বানানো হতো। এর মেঝেতে মাটি লেপে ঠিক মাঝখানে রাখা হতো একটি মশাল।রাতের বেলা একটা লোক এই গোল কাঠামোটা মাথায় নিয়ে হাতে ছোট একটা ঘন্টি বাজাতে বাজাতে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যেতো। অন্য তিন-চার জন অস্ত্র নিয়ে হাটতো এই লোকের পেছনে। এই ঘন্টির মিষ্টি শব্দ ও কাঠামোর ভেতরের সেই মশালের আলোতে হরিণগুলো মোহিত হয়ে যেতো। পাশেই শিকারীদের এগিয়ে আসা হরিণগুলো টেরই পেতো না। ফলে খুব সহজেই শিকারে পরিণত হতো।

হরিণ ছাড়াও বনে শেয়াল, খেঁকশেয়াল,সজারু, খরগোশ, ভাল্লকু ইত্যাদি পশু দেখা যেতো।

তথ্যসূত্র: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা-মুনতাসীর মামুন।


Spread the love

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *