বাদামতলীর ঘাট।
অনুমান করা হয় নবাব শায়েস্তা খাঁ তার প্রথম সুবেদারি আমলে ১৬৬৪-১৬৭৭ সালের মধ্যে কোন একসময়ে এই ঘাট নির্মান করেছিলেন। এখানে অনেক বাদামের গাছ ছিলো তাই এর নামকরন করা হয় বাদামতলী।
এই এলাকার কাছেই উঁচু প্রাচীর দেওয়া একটা কাঠের প্রাসাদ ছিলো নবাবের। উনি মাঝে মাঝে প্রাসাদের কাছে একটি তাঁবুতে সময় কাটাতেন। তখন তা পরিচিত ছিলো পাকুরতলী নামে। এই তাঁবুর কাছেই নবাবের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন ফরাসী পর্যটক তাভেরনিয়ার ১৬৬৬ সালে৷ তিনি নবাবকে উপহার হিসবে একটি সোনার ঘড়ি, স্বর্ণ একটি আস্তরণ, স্বর্ণ ও রূপার সুতার সেলাই করা রুমাল, একটি দামী পাথর, রৌপ্যখচিত এক জোড়া পিস্তল আর একটি আতস কাঁচ।
এই তাঁবুর কাছেই ছিলো একটি ছোট মসজিদ, মসজিদের উত্তর পাশে তাভেরনিয়ারের কণ্যা লাতলি বেগমের স্মৃতিসৌধ। কিন্তু বর্তমানের মিটফোর্ড হাসপাতালের ভিতরের মহিলা ওয়ার্ড তৈরীর সময় লাডলি বেগমের কবরটি ভেঙে ফেলা হয়। কবরের ভেতর থেকে পাওয়া যায় একটি সোনার আতরদান, একটি রূপার গোলাপদান ও একটি লোবানদান৷ সে সময় এই কবর ভাঙা নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি হয়। নবাব আহসানউল্লাহ আবার লাডলি বেগমের কংকাল ও উদ্ধার করা দ্রব্য স্থাপন করা হয়।
বাদামতলী ঘাট ও খালের প্রবেশমুখে একটি নহবতখানাও নির্মান করেন নবাব। ১৮৪০ সালের আঁকা একটি ছবিতে নবাবের প্রাসাদে ঢোকার মুখের দরজাটি তখন দেখা যায়।
তথ্য সূত্র: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা-মুনতাসীর মামুন

ছবি:ইন্টারনেট
লেখক: আরিয়ান মাহমুদ খান