বাঙ্গালি সমাজ সংস্কারক ব্রজসুন্দর মিত্র।
ঢাকা শহরের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নতির সাথে যার নাম জড়িয়ে আছে তিনি ব্রজসুন্দর মিত্র। এ খ্যাতিমান মানুষটি ১৮২০ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বুতুনিসিমুলিয়ার এক সম্ভ্রান্ত কিন্তু অসচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম ভবানীপ্রসাদ মিত্র। ছোটবেলায় পিতাকে হারান তারপর থেকে মায়ের পরিবারের। তিনি কিশোর বয়সে পড়াশোনা করেন কলকাতার জেনারেল অ্যাসেমব্রিজ ইন্সটিটিউটে।
সংসারের চাপে পরে মাত্র ২০ বছর বয়সে ১৮৪০ সালে দশ টাকা বেতনে ঢাকার কমিশনার অফিসে কেরানীর চাকরি শুরু করেন৷ তিনি কাজের দ্বায়িত্ব পালনের ব্যাপারে ছিলেন কঠোর আর তাই যখন চাকরি থেকে অবসর নেন তখন তিনি ডেপুটি কালেক্টর। বেতন ২৭০০ টাকা। ১০ টাকা দিয়ে শুরু করে ২৭০০ টাকা মোটেও সহজ ছিলো না সেসময়ে।
১৮৪৭ সালে ঢাকায় ব্রজসুন্দর মিত্রের চেষ্ঠায় প্রতিষ্ঠিত হয় ব্রাহ্ম সমাজ। এছাড়াও পূর্ববঙ্গ ব্রাহ্ম আন্দোলন এগিয়ে নিতে তিনি ভূমিকা রাখেন।ঢাকা ব্রাহ্ম সমাজই প্রচলিত সকল কুসংস্কার এবং সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তুলেছিলো, স্কুল- কলেজ,সভা-সমিতি প্রতিষ্ঠা করে সমাজ পরিবর্তন শুরু হয়। কাজের সূত্রে কুমিল্লায় বদলি হওয়ায় আরমানিটোলায় একটি বাড়ি কেনেন যেখানে ব্রাহ্ম সমাজের অফিসের সামনে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন৷ আর্থিক ভাবে অসুবিধার মুখে পরলে স্কুলটি তৎকালিন জমিদার শিক্ষানুরাগী কিশোরলাল রায় চৌধুরী দ্বায়িত্ব নেন স্কুলটির।উনিশ শতকে এই স্কুলটি জগন্নাথ স্কুল,কলেজ এবং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। মিটফোর্ড হাসপাতালকে সেসময়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে তৈরী করার উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন। যেন নৌ পথে রোগীদের যাওয়া আসা করতে সুবিধা হয়।
তার এসব কর্মকাণ্ডে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর খুব খুশি হন এবং ব্রজসুন্দর মিত্রের তৃতীয় কণ্যা উমাসুন্দরীর সাথে ঠাকুর জমিদারীর দেওয়ান প্রসন্ন কুমার বিশ্বাসের সাথে বিয়ের প্রস্তাব দেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ। ঠাকুরবাড়ির নিয়ম মেনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়৷
পুরান ঢাকা সহ ঢাকা শহরের অনেক স্থাপনার সাথে এই ব্রজসুন্দর মিত্র নামটি জড়িয়ে আছে। পূর্ববাংলা তথা ঢাকায় ব্রাহ্ম মন্দির প্রতিষ্ঠায় ব্রজসুন্দর মিত্র অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৮৭৫ সালে এই বাঙালি সমাজ সংস্কারক মৃত্যুবরণ করেন।
তথ্যসূত্র: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা-মুনতাসীর মামুন