পিলখানার হাতি

Spread the love

বর্তমানে ঢাকাকে বলা হয় রিকশার নগরী। কিন্তু অতীতে এই নগরীর সাথে হাতির ছিলো এক নিবিড় সম্পর্ক। পিলখানা,এলিফ্যান্ট রোড, হাতির পুল, হাতিরঝিল, মাহুতটুলি নামগুলো এসেছিলো এই হাতির দাপট থেকেই৷ ইংরেজ আমলে ঢাকার নবাবরা “বাইগন বাড়ি” বেগুনবাড়ি যেতেন বণ্য হাতি শিকারে। সেখান থেকে বা ঢাকার আশেপাশের আরো সব বন থেকে হাতি ধরে কোম্পানি আমলে রাখা হতো বর্তমান পিলখানায়। এখানে বণ্য হাতি পোষ মানানোর ব্যবস্থা ছিলো। এলাকার অনেক জমিদার নির্দিষ্ট ফি দিয়ে এখান থেকে বণ্য হাতি পোষ মানিয়ে নিতেন৷ পিলখানায় অনেক বড় বড় হাতি ছিলো। সেই পিলখানার মাহুতরা যেখানে বাস করতেন সেই এলাকার নাম হয় মাহুতটুলি। হাতিগুলো গোসল করানোর জন্য নবাবগঞ্জ এলাকায় নদীরধারে একটি ঘাট বানানো হয়েছিলো। লোকে এখনও তা হাতির ঘাট বলে জানে।

ইংরেজ আমলে পিলখানায় হাতি রাখা হতো সেগুলো গোসল করানো হতো বিভিন্ন ঘাটে,নদী,খালে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মাহুতদের।হাতির মলমূত্রে গলি পথ নোংরা হয়ে যেতো। শেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে ইংরেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় হাতি গোসল করানো হবে রমনা এলাকার খাল ও ঝিলগুলোতে। পিলখানা থেকে রমনা পর্যন্ত যে সড়ক ধরে হাতি আনানেওয়া করা হতো সেই এলাকার নাম হয় এলিফ্যান্ট রোড। এলিফ্যান্ট রোড ও পরিবাগের সংযোগস্থলে ছিলো একটি পুল। এই পুলের নিচের দিয়ে হাতি আসা যাওয়া করতো বলে একে বলা হতো হাতিরপুল।

ইস্টার্ন বেঙ্গলি ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার, ঢাকাতে উল্লেখ আছে- বড় বড় হাতি দল বেঁধে পুরো এলাকা চষে বেড়াতো। এলকাাবাসী এদের যন্ত্রণা অতিষ্ঠ ছিলো। ১৭৯০ সালে ভাওয়ালের কালেক্টর লিখেছিলেন- স্থানীয় জমিদার ও বিত্তবানরা হাতি পুষতেন যাতায়াতের সুবিধার জন্য। সে সময়ে রাস্তা ছিলো না। তাই চলাচলের জন্য বেশ ভালো বাহন ছিলো হাতি৷

তথ্যসূত্র: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা-মুনতাসীর মামুন


Spread the love

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *