জগন্নাথ হল

Spread the love

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসনের একটি সুপরিচিত জায়গা জগন্নাথ হল। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে। নিয়ম ছিলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র-ছাত্রীকে দশ মাইল এলাকার মধ্যেই থাকতে হবে। এর ফলে, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে তিনটি আবাসিক হল প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পুরানো তিনটি হল হলো- ঢাকা হল( বর্তমানে শহীদুল্লাহ্ হল), জগন্নাথ হল ও মুসলিম হল।

ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ কলেজ ঢাকার পুরানো এ কলেজ দুটির নামানুসারে করা হয় এই হল দুটির নাম। পুরোনো ঢাকা কলেজের হোস্টেল তৈরী হয়েছিলো ঢাকা হল আর নতুন দুটি হলের জন্যে নির্মিত হয়েছিলো দুটি নতুন ভবন।

রমেশচন্দ্র মজুমদার জানিয়েছিলেন- শুরুতে ঢাকা, জগন্নাথ ও মুসলিম হলের যথাক্রমে দুশো, দেড়শো ও তিনশো ছাত্র থাকার ব্যবস্থা ছিলো।

জগন্নাথ হলের প্রথম প্রভোস্ট ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত। তাকে একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের প্রফেসর ও জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট নিয়োগ করা হয়েছিলো। প্রভোস্টের ভাতা ছিলো ১৫০ টাকা ও ভাড়াবিহীন বাড়ি। নরেশচন্দ্র তার ভাতা ছাত্রদের বৃত্তি হিসেবে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। স্মৃতিকথায় তিনি জানিয়েছিলেন, যখন তিনি প্রভোস্ট হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তখন বাকি হল দুটি মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিলো এবং যেহেতু এই হলের অধিকাংশ ছাত্রই এসেছিলেন জগন্নাথ কলেজ থেকে তাই এই হলকে একটু হেয় চোখে দেখা হতো।

জগন্নাথ হলের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রাধাক্ষ্য নরেশচন্দ্র ও রমেশচন্দ্রের কৃতিত্ব হলো, এ হলটিকে বর্ণবাদী ছাত্রদের প্রাধাণ্য থেকে মুক্ত করা।নরেশচন্দ্র জানিয়েছেন, ঢাকার হোস্টেলগুলোতে উচ্চ বর্ণ হিন্দুদের প্রাধান্য ছিলো, নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা সেখানে থাকতে পারতেন না। নরেশচন্দ্র প্রভোস্ট হলে জগন্নাথ কলেজের কিছু প্রাক্তন ছাত্র (নিম্নবর্ণ, সাহা) যারা মেসে থাকতেন, তারা এসে অনুমতি চাইলেন হলে থাকার। নরেশচন্দ্র চাইছিলেন হলের একটি অংশে তারা থাকুন এবং তাদের রান্নাও আলাদা হবে। নমশূদ্রের নিয়েও একই সমস্যা হয়েছিল। তবে আশার কথা হলো এই যে পরে এই বর্ণভেদ প্রথা আর থাকে নি।

১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী জগন্নাথ হলের ছাত্র শিক্ষকদের হত্যা করে। জগন্নাথ হলের প্রাঙ্গন থেকে পরে হাড় ও মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়।

তথ্যসূত্র: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা-মুনতাসীর মামুন

লেখক: উম্মে সাহেরা এনিকা


Spread the love

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *