খিচুড়ি :
ঢাকাবাসীর খিচুড়ির প্রতি ভালোবাসা বহু আগে থেকেই। খিচুড়ি তৈরির বিভিন্ন প্রস্তুত-প্রক্রিয়া ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। আর এই খিচুড়ির ইতিহাসও ঢাকাবাসীর কাছে অনেক পুরোনো বলে জানা যায়। মূলত ঢাকাবাসী বর্ষাকালে খিচুড়ি খেতে খুবই আগ্রহী। পোলাও চাল, ভাজা মুগের ডাল অন্যান্য জায়গাতে যেরকমভবে রান্না করা হয় এখানেও ঠিক অনুরূপভাবেই রান্না করা হয়। এখানে সিদ্ধ ডিম ঘিতে ভেজে অপরিহার্যভবে খিচুড়িতে প্রয়োগ করা হয়। সাধারণভবে খিচুড়ির সাথে মোরগ বা খাসির দোপেয়াজা ব্যাবহার করা হয়। আর মূলত এই দুই পদের দোপেয়াজার সাথেই খিচুড়ি অত্যাধিক সুস্বাদু লাগে বলে লোকমুখে জানা যায়। যা কিনা পরবর্তীতে ইতিহাসেও বর্ণিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন পদের মাংসের কিমা অর্থাৎ কাবাবের সাথেও খিচুড়ির স্বাদ হয় অতি উত্তম। আর ঢাকার এমন অনেক পরিবারেই পূর্ব রীতি অনুযায়ী মাংসের কিমার কাবাবের সাথে খিচুড়ি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। খিচুড়িতে পনির প্রয়োগ ঢাকাবাসীর নিজস্ব উদ্ভাবন। এতে যথেষ্ট নৈপুণ্যতার প্রয়োজন পড়ে। মসুর, ছোলা, মাসকালের ডাল ব্যবহারে খিচুড়ি কম-বেশি রান্না করতে দেখা যায়। খিচুড়ি রান্নার প্রক্রিয়া অনেকটাই পোলাও এর দম প্রক্রিয়ার মতো। চাটনি বা আচার সহযোগে বর্ষা ও শীতের সময় ঢাকায় খিচুড়ি খাওয়ার আয়োজন হতো। যা কিনা এখনও অব্যাহত আছে। ঢাকায় সবজি খিচুড়ি হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি খুবই প্রিয় খাবার। বিশেষ প্রক্রিয়া নৈপুণ্যতার সাথে এই খিচুড়ি তৈরি করতে পারতো এবং তারাই মূলত এই খিচুড়ি তৈরিতে সেরা ছিলো।
খিচুড়ি বহুকাল থেকেই ঢাকাবাসীর কাছে একটি মুখরোচক খাবার হিসেবে পরিচিত। যা কিনা আামাদের ঢাকার খাদ্যের ইতিহাসের মধ্যে অন্যতম।
তথ্য সূত্র: ঢাকাই খাবার ও খাদ্য সংস্কৃতি
সাদ উর রহমান
লেখক: আরিয়ান মাহমুদ খান।