ঢাকার প্রথম মুসলিম মহিলা চিত্র শিল্পী মেহেরবানু খানম।
ঢাকার প্রথম মুসলমান মহিলা শিল্পী মেহেরবানু এমনটাই “ঢাকার প্রথম আর্টিস্ট মেহেরবানু খানম” লিখেছিলেন সাইদ আহমদ।
ঢাকার নবাব খাজা আহসানউল্লাহ’র মেয়ে মেহেরবানু খানম ( ১৮৮৫-১৯২৫)। সে হিসেবে তিনি সলিমুল্লাহ’র বোন৷ ১৯০২ সালে তার বিয়ে হয় নবাব পরিবারেরই আরেক সদস্য খাজা আজমের সঙ্গে। আজম ছিলেন ঢাকার পঞ্চায়েতগুলোর সুপারিন্টেডন্ট। স্বামী সহ থাকতেন তিনি দিলকুশায়।
ছোটবেলা থেকেই মেহেরবানু খানমের ঝোঁক ছিলো ছবি আঁকার দিকে। পারিবারিক নানান বাঁধা থাকা স্বত্বেও নিজের ভালো লাগার কাজটি চালিয়ে গিয়েছিলেন। তবে,বিয়ের পর স্বামী -সন্তানেরা তাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন ছবি আঁকায়। ১৯২০ সালে তার আঁকা একটি ছবি “মোসলেম ভারত” পত্রিকায় ছাপা হয়। ছবির বিষয়টি ছিলো খেয়া পরাপার।কবি নজরুল তা দেখে এবং লেখেন “খেয়া পারের তরুনী”। কবি নজরুল ছবি দেখে উচ্ছাস প্রকাশ করে লেখেন – ” মুসলিম পরিবারের মেয়ে এতো চমৎকার করে ছবি আঁকতে পারেন তা আমার জানা ছিলো না। হিন্দু সমাজের দু-একজন মহিলা ছবি আঁকেন তা আমি জানি। কিন্তু মুসলিম তাও আবার এমন ঐতিহ্যবাহী পরিবারের মহিলা ছবি আঁকছেন এটি একটি আশ্চর্য বিষয়।”
মেহেরবানুর আঁকা বিক্রমপুরের একটি ছবি সে সময়ে বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ এমদাদ আলী চমৎকার বর্ননা করেছিলেন। এভাবেই মেহেরবানু পরিচিত হয়ে উঠেন শিল্পী হিসেবে। মেহেরবানুর দুই পুত্র ও এক কণ্যা। তারাও জড়িত ছিলেন বিভিন্ন ঢাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। বড় পুত্র খাজা মোহাম্মদ আদিল( ১৯০৪-১৯৭৩) ঢাকার প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্য ছবি “লাস্ট কিস” এ অভিনয় করেন৷ এছাড়া তিনি সাহিত্যমোদী ও খেলোয়াড় হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। দ্বিতীয় পুত্র খাজা আজমল(১৯০৫) “লাস্ট কিস” সিনেমার নির্মাতা এবং সংস্কৃতি সেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মেয়ের নাম হুর বানু৷
তথ্য সূত্র: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা-মুনতাসীর মামুন।