প্রাচীন ঢাকার ইতিহাস
মোঘল আমলেই ঢাকা হয়ে উঠেছিলো বাংলার অন্যতম জনপদ। মূলত বল্লাল সেনের আমলে “বায়ান্ন হাজার তিপ্পান্ন গলির শহর” হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মূলত ঢাকার উৎপত্তি নিয়ে অনেক কল্পকাহিনি প্রচলিত আছে। তবে ঢাকা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয় মেঘল শাসনামলে। ১৬০৮ শালে মোঘলরা ঢাকায় প্রাদেশিক রাজধানী স্থাপন করে। ঢাকা ধীরেধীরে হয়ে ওঠে রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডের প্রাণকেন্দ্র।
ঢাকা নামের উৎপত্তির কল্পকাহিনি :
ঢাকা ছিল বাংলার সর্বপ্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ জনপদ এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই স্থানটির নামকরণের পেছনে অনেক ইতিহাসবিদদের অনেক মতবাদ রয়েছে। তার মধ্যে কিছু মতবাদ বহুল প্রচলিত ও চর্চিত। এদপর মধ্যে একটি মতবাদ হলো এই অন্ঞলে “ঢাক” বা Butea Frondosa নামে একধরনের গাছ জন্মায় আর এই উক্ত গাছের নামানুসারে এই অঞ্চলের নাম হয় “ঢাকা”।
অনেকের মতে এও বলা হয় যে সম্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে সুবেদার ইসলাম খান বিশাল নেীবহর নিয়ে পূর্বদিকে যাত্রা শুরু করেন এতে করে তিনি সকল দিক বিবেচনায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের একটি শহরকে তার রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য পছন্দ হয়। বুড়িগঙ্গার যে ঘাট দিয়ে তিনি প্রবেশ করেন সসেই ঘাটটিকে ‘চাঁদনি’ নামে এবং সেই ঘাটের পাশে যেখানে তিনি প্রথম শিবির স্থাপন করেন সেই স্থানটিকে “ইসলামপুর” নামে পরিচয় লাভ করে।
সেখানে তিনি কিছু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা অর্চনা ও কিছু ঢাকীদের ঢাক বাজাতে দেখেন। অতঃপর ইসলাম খান ঢাকীদের খুব জোরে ঢাক বাজানোর নির্দেশ দেন। আর বুড়িগঙ্গাকে দক্ষিণ সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করে বাকি তিন দিকে লোক পাঠান এবং যতদূর পর্যন্ত শব্দ যায় ততদূর পর্যন্ত সীমানা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। আর এই উক্ত ঢাকা নামের উৎপত্তির পেছনে এই এই ঢাক বাজানোকে নির্দেশ করা হয় বলে অনেকে মত দিয়েছেন। তবে উক্ত ধারণাটির ও কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। কেননা সুবেদারগণ ছিলেন অনেক বিচক্ষণ ব্যাক্তি। আর তারা এরুপ অবাস্তব ধারণার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রন করতে পারেন না।

ড.এন.কে ভট্টাশালী বলেছেন, ‘ঢাক’ এর কল্পকাহিনী ও বল্লাল সেনের হারিয়ে যাওয়া দেবী (ঢাকেশ্বরী) এর কাহিনি তিনি বিশ্বাস করেন না। কেননা বল্লাল সেনের কাহিনির বর্ননায় যে দেবীর কথা বলা হয়েছে তা স্পষ্টতই বল্লাল সেনের সময়কার নয়। তাছাড়া ইসলাম খান এ শহরের নাম দেন “জাহাঙ্গীরনগর”।
ইসলাম খান ও মানসিংহের এখানে প্রবেশের পূর্বেও এ শহরের অস্তিত্ব ছিলো। তবে ড. ডি.সি সরকার বলেন এটি মূলত এসেছে “ঢাক্কা” শব্দের সমার্থক হিসেবে। কেননা ঢাক্কা শব্দের অর্থ “পাহারাকেন্দ্র” বিক্রমপুর ও সোনারগাঁও এর হিন্দু রাজাদের পাহারাকেন্দ্র হিসেবে এলাকাটি ব্যাবহৃত হতে পারে। ঢাকা শহরটি ছিলো উঁচু স্থানে অবস্থিত। পপরবর্তীতে এই শহরের মানুষের বাচনভঙ্গির জন্য “ঢাক্কা” নাম পরিবর্তিত হয়ে ঢাকা হয় আর এই স্থানের মানুষ “ঢাক্কিয়া” হিসেবে পরিচিতি পায়।
পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ঢাকা হয় পুর্ব পাকিস্তানের রাজধানী অতঃপর শুরু হয় স্বাধীন ঢাকার ইতিহাস। কেননা তখন শুরু হয়েছিল “বাংলাদেশ” নামের রাষ্ট্রের স্বাধীনতার সংগ্রাম।এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তীতে ঢাকা পায় আধুনিকতার ছোয়া এবং দিনে দিনে ঢাকা হয়ে ওঠে বাংলাদেশের সবচেয়ে আধুনিক ও জনবহুল শহর। ২০২২ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী ১ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৭০৮ জন মানুষের বসবাস এই শহরে।
তথ্য সূত্র: কালের স্বাক্ষী ঢাকা- ড.এ এইচ দানী
চার্লস ডয়লির ঢাকা স্মৃতিময় নগরী- মলয় পাঁড়ে
খুব ভালো লেগেছে পড়তে।