বুড়িগঙ্গা তীরের মসজিদ।
ভেনিসের যেসকল ভবন আড্রিয়াটিক সাগরতীর সুন্দর করে রেখেছে এবং ক্যানালেতোর আঁকা ছবিতে আনন্দ সৃষ্টি করেছে এই মসজিদটিও তেমনি একেবারে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে দাড়িয়ে ছিলো উজ্জ্বল দীপ্তিময় ছবির মতো চিত্র রচিত হয়েছে। বর্তমানে অনাদৃত এর গম্বুজ ও খিলানগুলোতে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফাটল ধরেছে,টুকরো টুকরো হয়ে ঝরে পরছে, ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। তারপরেও সামগ্রিকভাবে এর রুচিশীল আভিজাত্য ও বাহুল্যবর্জিত স্থাপত্যশৈলীর সৌন্দর্য স্থপতির মেধা ও মার্জিত রুচির প্রকাশ করে।
একজন প্রকৃত শিল্পী তার সৃষ্টির মধ্যেই বাঁচেন। এই ধারণার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পরেও আক্ষেপ থেকেই যায় এই সৃষ্টির সঙ্গে এর স্রষ্টার পরিচয়টি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা গেলে ভালো হতো।
নির্মাণ শৈলী এবং এর ক্ষয়ে যাওয়া বর্তমান দশা থেকে ধারণা করা যায়,ভারতীয় উপদ্বীপের এই অংশে যে সকল মুসলিম স্থাপত্য দেখা যায় এই মসজিদটি তার প্রাচীনতম নির্দেশনগুলোর অন্যতম। এর আটটি গম্বুজ, গোল ও আয়তকার বিভিন্ন কাঠামো রুচিশীল এবং প্রশস্ত সাদামাটা দেয়ালের সঙ্গে যুক্ত সারিবদ্ধ তীক্ষ্মগ্র খিলান ও অন্যান্য অংশ মিলে এক অসাধারণ স্থাপত্য।
এখনও রয়ে যাওয়া কিছু পলেস্তরা থেকে বোঝা যায়,এটা ছিলো হাল্কা বর্ণের এবং কোন বাড়াবাড়ি নেই৷ যদিও এর বর্ণের অনুজ্জ্বলতা কমিয়ে আরো কমনীয় আরো স্নিগ্ধ করে তুলেছে। সব মিলিয়ে এমন শান্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ রচনা করেছে যা ধর্মীয় আবহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কবির চোখে দেখলে বলতে হয়, এর পাশ দিয়ে চলতে চলতে নদী তীরের এই মনোহর ও শৈল্পিক এই মসজিদটি বুড়িগঙ্গা হঠাৎ যেন গর্বের সঙ্গে থমকে দাঁড়িয়েছে।
বুড়িগঙ্গা (ঢাকা নগরীর দক্ষিন – পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত) কথাটির আক্ষরিক অর্থ বৃদ্ধা নদী। পরবর্তীকালে গঙ্গা থেকে উদ্ভুত শাখা নদীগুলো থেকে একে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করতেই এমম নামকরন।
তথ্যসূত্র: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা-মুনতাসীর মামুন