চকবাজারে দাস বিক্রি হতো।

Spread the love

সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ বাংলায় এসেছিলেন বিদ্রোহ দমন করতে। বাংলার বারোভূঁইয়া মোগলদের আনুগত্য মেনে নিতে রাজি হয়নি। বারোভূঁইয়ারা মনে করতেন, মোগলরা কখনও বাংলার সুহৃদ নয় আফগানিস্তান থেকে আসা সুলতানরাই বাংলার মঙ্গল চায়। এ কারনেই তারা বরাবরই মোগলদের বিরোধিতা করতেন। তাদের দমন করতেই মোগল সেনাপতি মানসিংহের বাংলায় আসেন। ভাওয়াল থেকে সদর দপ্তর সরিয়ে তিনি ঢাকাতে নিয়ে এসেছিলেন ১৬০২ সালে। বর্তমানে যেখানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, সেখানেই দূর্গ স্থাপন করেছিলেন। সাধারনত, সে আমলে কোথাও সেনা দূর্গ স্থাপন করলে তার পাশেই গড়ে উঠত বাজার, প্রয়োজনেই তাগিদেই৷ ঠিক তেমনিই বাজার গড়ে উঠেছিলো চকবাজারে। যদিও তখন এলাকার নাম ভিন্ন।

চার্লস ড’য়লির অ্যান্টিকুইটিজ অব ঢাকাতে বলা হয়েছে, বাজারটির নাম ছিলো “নাখাস”। এটি নিচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ২শ ফুটের একটি চৌকানা চত্বর ছিলো।”নাখাস” আরবি শব্দ। এর অর্থ দাস- বিক্রেতা। তাই ধারনা করা হয় মোগল আমলে এখানে দাস কেনা-বেচা হতো।

মানসিংহ দূর্গ স্থাপনের একশ বছর পর ১৭০২ সালে মুর্শিদকুলি খাঁ এই বাজারের নাম দেন “পাদোশা” বাজার বা “বাদশাহি বাজার”। ১৭৩৩-৩৪ সালে মুর্শিদকুলি খাঁ এর জামাতা দ্বিতীয় মুর্শিদাকুলি খাঁ বাজারটি সংস্কার করেন। ঐতিহাসিকদের মতে তখনই পূর্নাঙ্গ বাজার হিসেবে চকবাজারের যাত্রা শুরু হয়। সে আমলে ঢাকার ধনী ও অভিজাত বাসিন্দাদের কেনা-কাটার প্রধান কেন্দ্র ছিলো।

চকবাজারের আগের জৌলুশ না থাকলেও চকবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই খানদানি আমেজ বিরাজ করে। ১৬৭৬ সালে চকবাজারের পশ্চিম প্রান্তে তিন গম্বুজ মসজিদটি নির্মান করেন শায়েস্তা খান। তিনি নিজেও এই মসজিদে নামাজ আদায় করতেন বলে জানা যায়। এই চকবাজারে ইসলাম খাঁ একটা দূর্গ তৈরী করেন সপ্তাদশ শতাব্দীতে। এই দূর্গটি ঢাকার কেন্দ্রীয় কারগার৷ সে আমলে অপরাধী বা বিদ্রোহীদের ধরে চকবাজার চত্বরে ফাঁসি দেওয়া হতো। এই চত্বরেই বিচারের আয়োজন করা হতো।

সে আমলে গভর্নর ভবণও ছিলো ইসলাম খাঁ’এর সেই দূর্গের ভেতর। তাই ধারনা করা হয় সে সময়ে নগরীর চকবাজারের বেশ গুরুত্ব ছিলো।
তথ্যসূত্র: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা-মুনতাসীর মামুন


Spread the love

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *