রোজ গার্ডেন প্যালেস।
টিকাটুলি কে.এম.দাস লেনে অবস্থিত রোজ গার্ডেন প্যালেস তৈরীর সাথে বলধা গার্ডেনের যোগসূত্র রয়েছে।

হৃষিকেশ দাস ছিলেন ঢাকার একজন ধনী ব্যবসায়ী। তিনি একদিন বলধার জলসায় অংশ নিতে যান। সেদিন তাকে অপমান করা হয় কারন তিনি ছিলেন নিম্ন বর্নের। সেই অপমানের পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন একই রকম বাগান ও বাড়ি নির্মান করে প্রতিশোধ নিবেন৷ “রোজ গার্ডেন প্যালেস” নির্মানের এই ইতিহাসের সততা না পাওয়া গেলেও লোক মুখে ছড়িয়ে পরা ইতিহাস নিয়ে আজকের লেখা শুরু।
রোজ গার্ডেন প্যালেস তৈরী করেন হৃষিকেশ দাস। বিশাল অট্টালিকা সংলগ্ন গোলাপ বাগানটিও তার তৈরী করা। এই বৃহৎ গোলাপ বাগানের কারনেই এই অট্টালিকার নাম হয় “রোজ গার্ডেন”।
হৃষিকেশ ২২ বিঘা জমি কিনে গড়ে তুলেন এক গোলাপ বাগান। বাগানে ছিল পুকুর এবং বিভিন্ন মূর্তি। এছাড়াও আম গাছের সারি ছিলো। এর মাঝখানে তৈরী করেছিলেন কারুকার্যময় জমকালো এক অট্টালিকা।
হৃষিকেশ দাসের এই বাগান বাড়িতেই বসতো সেসময়ে জলসা বসতো। এগুলোই চলতে থাকলো সেখানে আর হৃষিকেশ ব্যবসাতে মনোযোগ দিতে পারলেন না ফলে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ঋণের বোঝা নিয়ে দেউলিয়া হলেন। “রোজ গার্ডেন প্যালেস” জনৈক কাজী আব্দুর রশীদকে দিয়ে দিতে বাধ্য হন।
সত্তর শালের দিকে লীজ দেওয়া হয় “বেঙ্গল স্টুডিও” কে। বর্তমানে আগের সেই গোলাপ বাগান নেই, নেই সেই আগের জৌলুশ।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৯ সালে “রোজ গার্ডেন প্যালেস” কে সংরক্ষিত ভবন ঘোষনা করেন।
তথ্যসূত্র: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা-মুনতাসীর মামুন