ঢাকার ব্যবসা বানিজ্যের রকমফের।
ঢাকা নগরীর বাংলার যে ভাটি অঞ্চলে অবস্থিত তা আফ্রিকা বা আরবের মরুভূমির মতো সমতল এবং আমাজন তীরবর্তী সেইসব দেশের মত যেখানে একখন্ড পাথর পাওয়া দুরূহ। এখানকার মাটি বরাবরই উর্বর। মাটির এই স্তরের নিচে রয়েছে বালির গভীর স্তর। ঢাকার বাসিন্দারা অণ্য যে কোন দেশের চাইতে কম পরিশ্রম করে বেশী পরিমানে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন আগের থেকেই।
বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য ভাত। ভাতের জোগান দেওয়ার মত যথেষ্ট ধান উৎপাদন এখানে হতো আগেও এখনও এছাড়াও বিভিন্ন খাদ্যশস্য,তরকারী ও ফলমূলের ফলন ভালো হয়।মসলা উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত ছিলো ঢাকা। চিনি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় আখের চাষ উঁচু জমিতে ভালো হয়,প্রতি বছর বণ্যার সময় ফসলি জমি তলিয়ে গেলেও পরে আবার তা চাষাবাদের জন্য উপযুক্ত করা ছিলো নিত্য ব্যাপার৷
আওরঙ্গজেবের আমলে এই নগরীতে উৎপাদিত পণ্য অত্যন্ত উৎকর্ষতা লাভ করে এবং রপ্তানিতে ব্যাপক প্রসার ঘটে। তখনকার সুবেদারগণ প্রতিবছর রাজকীয় পোশাক -পরিচ্ছেদ,সোনার সুতা দিয়ে ফুলের নকশা করা মসলিন দিল্লীর সম্রাটের কাছে পাঠাতেন। এ সবের মূল্য ছিলো প্রায় এক লক্ষ তিরিশ হাজার টাকা বা ১৬,২৫০ পাউন্ড স্টালিং।
ইংরেজরা বসতি গড়ার অনেক আগে ওলন্দাজরা ঢাকায় একটি কারখানা স্থাপনা করে এবং স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে ব্যবসায়ীক লেনদেন শুরু করে।তাদের মূল কারখানা ছিলো হুগলি নদীর তীরে চিনসুরাতে। ঢাকাতে ইংরেজদের যে কারখানা তৈরী হয়েছিল তা মি.স্টার্ক নামে এক ব্যক্তি ইলতিজাম খানের (যিনি মোহাম্মদ ফারুকশিয়ারের অধীনে ঢাকা শাসন করতেন) তার অনুমতি নিয়ে।
এখানে কিছু এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল যারা ঢাকা থেকে কাপড় কিনে সেগুলো কলকাতায় পাঠাতো।তাভার্নিয়ারের এই কারখানার অবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছিলেন মোটামুটি ভালো। ১৭৪২ সালের আগে ফরাসিরা এখানে কারখানা স্থাপনের অনুমতি পায়নি৷ ফরাসিদের ও ওলন্দাজদের কারখানা এখন ধ্বংসস্তূপ। যদিও এই ধ্বংসস্তূপ দেখে বোঝা যায় এই স্থাপনার কাঠামো ছিলো সুদর্শন ও বিশাল জায়গা জুড়ে।
তথ্যসূত্র: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা-মুনতাসীর মামুন
লেখক: আরিয়ান মাহমুদ খান।