মগবাজারের ইতিকথা।

Spread the love

১০০ বছর আগেও মগবাজার ছিলো ঢাকা শহর থেকে দু মাইল উত্তর -পূর্ব দিকে। যতীন্দ্রমোহন রায় ঢাকার ইতিহাস বইতে ১৩১৯ বঙ্গাব্দে এভাবেই বিবরণ দেন৷ নাজির হোসেন তার “কিংবদন্তী ঢাকা” বইতে উল্লেখ করেন ১৬৩৫-৩৯ সালে চট্টগ্রামে আরাকান রাজের মগ গভর্নর ছিলেন মুকুট রায়। ইনি ছিলেন আরাকান রাজার ভাইয়ের ছেলে। মুকুট রায় ঐ সময়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুবেদার ইসলাম খাঁ এর কাছে আত্নসমর্পণ করেন। আত্নসমর্পণকারী মগদের এই দলটি ঢাকার কাছে বসতি স্থাপন শুরু করে। এ কারনেই এই জায়গার নাম হয় মগবাজার।

তবে ঢাকা গবেষক অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন এই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তিনি নির্মল গুপ্তের মতকেই বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন।

নির্মল গুপ্তের মতে- সুবেদার ইসলাম খাঁ এর সময়ে নয় বরং মগরা ব্রিটিশ আমলে ঢাকায় এসে আশ্রয় নেয়। উনবিংশ শতকে আরাকান থেকে অনেক মগ ব্রিটিশ সরকারের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। ব্রিটিশ সরকারের অনুমতি ক্রমে কিং ব্রিং নামে এক মগ সর্দার ৫০ জন লোক নিয়ে ঢাকার কাছাকাছি এক জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে বসবাস শুরু করেন এবং সেই থেকে এই এলাকার নাম হয় মগবাজার৷

পশ্চিমে ইস্কাটন, দক্ষিনে রমনা, উত্তরে তেজগাঁও এবং পূর্বে সিদ্ধেশ্বরী -মালিবাগ এলাকা। নগরীর কেন্দ্রস্থলে হলো মগবাজার। যদিও ১০০ শত বছর আগে এই জায়গা ছিলো জঙ্গলাকীর্ণ এবং বাঘ, হাতি, অজগরের মত বণ্য প্রানীর অবাধ বিচরন স্থল ছিলো এটি। ১৮৬৫ সালে এখানে কয়েকজন অল্পবয়স্ক লোক একসাথে একটি বাঘিনীকে তাড়িয়ে দিয়ে তিনটি বাঘের বাচ্চাকে ধরে এনেছিলো যা সেসময়ে পত্রিকায় ছাপা হয়।

নাজির হোসেনের বইতে এসেছে এর নাম আগে মগরাপাড়া ছিলো। পাঠান আমলে এই এলাকায় বিশ্রামগার ও নহবৎখানা নির্মান করা হয়েছিল। প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় নহবৎখানায় বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ও বাঁশি বাজানো হতো। এছাড়াও এখানে ছিলো একটহ মসজিদ। মসজিদে যারা নামাজ আদায় করতে আসতেন তহবিল নামক ভবনটিতে তাদের আপ্যায়ন করা হতো।

তথ্যসূত্র আংশিক: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা-মুনতাসীর মামুন


Spread the love

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *